মার্ক জাকারবার্গের পরিবার: ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত জীবনের অজানা গল্প
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গ শুধু একজন বিলিয়নিয়ারই নন, তিনি একজন পারিবারিক মানুষও। প্রযুক্তি দুনিয়ায় তার অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে যেমন রয়েছে মেধা ও পরিশ্রম, তেমনি রয়েছে একটি সহায়ক পরিবার। এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো মার্ক জাকারবার্গের পরিবার, তার বাবা-মা, স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান, সন্তান এবং পারিবারিক জীবন সম্পর্কে।
মার্ক জাকারবার্গের শৈশব ও পারিবারিক পটভূমি
মার্ক জাকারবার্গ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৪ সালের ১৪ মে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হোয়াইট প্লেইন্স শহরে। তিনি একটি শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হন। ছোটবেলা থেকেই তার পরিবার পড়াশোনা ও সৃজনশীলতায় বিশেষ গুরুত্ব দিত।
তার পরিবারে মোট চার ভাই-বোন ছিলেন, যেখানে মার্ক ছিলেন একমাত্র ছেলে। তিন বোনের মাঝে বেড়ে ওঠার ফলে তার ব্যক্তিত্বে ভিন্নধর্মী সংবেদনশীলতা ও ভারসাম্য লক্ষ্য করা যায়।
বাবা-মা: এডওয়ার্ড জাকারবার্গ ও ক্যারেন কেম্পনার
এডওয়ার্ড জাকারবার্গ (বাবা)
মার্ক জাকারবার্গের বাবা এডওয়ার্ড জাকারবার্গ একজন পেশাদার ডেন্টিস্ট। তিনি শুধু চিকিৎসকই নন, প্রযুক্তি বিষয়েও বেশ আগ্রহী ছিলেন। মার্কের কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ গড়ে ওঠার পেছনে বাবার বড় ভূমিকা ছিল।
শোনা যায়, মার্ক যখন ছোট ছিলেন, তখন তার বাবা তাকে Atari BASIC শেখান এবং পরে একজন প্রোগ্রামিং শিক্ষকও নিয়োগ করেন।
ক্যারেন কেম্পনার (মা)
মার্কের মা ক্যারেন কেম্পনার একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)। তার মা সবসময় সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও শিক্ষা নিয়ে সচেতন ছিলেন। এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ মার্কের চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা গঠনে সহায়ক হয়।
মার্ক জাকারবার্গের ভাই-বোন
মার্কের তিনজন বোন রয়েছেন:
- র্যান্ডি জাকারবার্গ
- ডোনা জাকারবার্গ
- এরিয়েল জাকারবার্গ
র্যান্ডি জাকারবার্গ
র্যান্ডি জাকারবার্গ ফেসবুকের প্রাথমিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব মিডিয়া ও প্রযুক্তি ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন এবং একজন সফল উদ্যোক্তা ও লেখক হিসেবে পরিচিত।
অন্য দুই বোনও শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত, যদিও তারা মিডিয়ার আলোচনায় তুলনামূলক কম আসেন।
স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান: জীবনের সবচেয়ে বড় সহযাত্রী
মার্ক জাকারবার্গের স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান একজন চিকিৎসক ও সমাজসেবী। তাদের পরিচয় হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়। বন্ধুত্ব থেকেই তাদের সম্পর্ক শুরু হয়, যা পরে বিবাহে রূপ নেয়।
২০১২ সালে, ফেসবুকের আইপিও-এর ঠিক পরদিনই তারা একান্ত পারিবারিক অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন, যা অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়কর।
প্রিসিলা চ্যানের পরিচয়
- পেশা: শিশু চিকিৎসক
- শিক্ষা: হার্ভার্ড ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া
- পরিচিতি: চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভের সহ-প্রতিষ্ঠাতা
প্রিসিলা চ্যান ও মার্ক জাকারবার্গ একসাথে সমাজসেবামূলক কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করে থাকেন।
মার্ক জাকারবার্গের সন্তানরা
মার্ক ও প্রিসিলার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে:
- ম্যাক্সিমা (Maxima)
- অগাস্ট (August)
- অরেলিয়া (Aurelia)
মার্ক জাকারবার্গ প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর ছবি শেয়ার করেন। সন্তানদের গোপনীয়তা ও স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করতে তারা মিডিয়া এক্সপোজার সীমিত রাখেন।
পারিবারিক জীবন ও মূল্যবোধ
অত্যন্ত ধনী হওয়া সত্ত্বেও মার্ক জাকারবার্গ তার পরিবারকে একটি সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন—
“পরিবারই মানুষের আসল শক্তি।”
তিনি সন্তানদের প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ শেখাতে আগ্রহী। ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার প্রতিও তারা গুরুত্ব দেন।
চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ: পারিবারিক দানশীলতা
২০১৫ সালে তাদের প্রথম কন্যা জন্মের পর মার্ক ও প্রিসিলা ঘোষণা দেন যে তারা জীবনের বেশিরভাগ সম্পদ সমাজকল্যাণে ব্যয় করবেন। এরই ফলাফল হলো Chan Zuckerberg Initiative (CZI)।
এই সংস্থার মাধ্যমে তারা কাজ করছেন:
- শিক্ষা উন্নয়ন
- স্বাস্থ্যসেবা
- বৈজ্ঞানিক গবেষণা
- সামাজিক ন্যায়বিচার
উপসংহার
মার্ক জাকারবার্গের পরিবার তার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। বাবা-মায়ের শিক্ষা, স্ত্রীর সহযোগিতা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা—সবকিছু মিলিয়েই তিনি শুধু একজন সফল উদ্যোক্তা নন, বরং একজন দায়িত্বশীল পারিবারিক মানুষ।
প্রযুক্তির শীর্ষে থেকেও পারিবারিক মূল্যবোধ ধরে রাখা যে সম্ভব, মার্ক জাকারবার্গের পরিবার তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
আপনি কি মার্ক জাকারবার্গের মতো সফল হতে চান?
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হওয়ার সঠিক গাইড, অনুপ্রেরণামূলক গল্প ও এক্সক্লুসিভ টিপস পেতে এখনই আমাদের সাথে যুক্ত হন।
✍️ আপনার মতামত লিখুন 🚀 আরো অনুপ্রেরণামূলক পোস্ট পড়ুন
💬 আপনার মতামত জানান
এই পোস্টটি সম্পর্কে আপনার মতামত, প্রশ্ন বা অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করুন।